‘আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি!’
— সবুজ আহম্মদ মুরসালিন
চেতনা, তোমায় যখন লিখছি তখন ভোর।
তোমাকে লিখবো বলে গোটা একটা বসন্ত বসে থেকেছি
কেটে গেছে তোমার প্রিয় বৃষ্টির মসৃণ দিন ও রাত্র।
তবুও তোমাকে লিখতে পারিনি।
তোমাকে বলার মতো কোনো কথা খুঁজে পাইনি।
সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি।
আধোঘুমে চষে বেড়িয়েছি তোমার স্মৃতির পাতা।
তুমি কে ছিলে আমার? প্রেমিকা?
প্রেমিকা বললে হয়তো ভুল বলা হবে।
তাহলে তোমাকে কী বলব?
তুমি কি আমার প্রেমিকা নও? কে তুমি?
জীবনানন্দ দাশের মতো করে আজ বলতে ইচ্ছে করছে;
“আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।”
তুমি কি আমার বনলতা?
নাকি আমার না পাওয়া মানুষ?
যে এসেছিলো— চলে যাওয়ার জন্য!
চেতনা, তোমাকে লিখবো বলে হাজারখানেক
সফেদ কাগজ ফুরিয়ে ফেলেছি।
রঙিন খামের কতগুলো বক্স শেষ করেছি জানা নেই।
তবুও তোমাকে লেখা হয়নি। লিখতে পারিনি একটুও!
এখন ভোর। শীতের আগমনী বার্তা পাঠিয়েছে পাখি।
ঘোলাটে রোদ আলো দিতে দিতে নেমে আসছে।
আমি জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে আছি।
তোমাকে ভাবছি। তুমি কেমন আছো? কোথায় আছো?
তুমি কি এখনো ভোর দেখো?
পাখিদের কথা শুনতে কান পাতো শূন্যতায়?
তুমি কি শুনতে পাও, অনুভব করো
কোনো এক অচেনা পাখি রোজ তোমাকে ডেকে বলে;
‘আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি!’